ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণ সব সময়ে আমাদের কাছে আসে। তারা কান্না করে এবং তারা বলে হাদি হত্যার বিচারটা নিশ্চিত করেন। এখন আমাদের কাছে তো বিচার ব্যবস্থা নাই। আমরা তো বাংলাদেশের আর অন্য দশটা মানুষের মতই সাধারণ নাগরিক। বাংলাদেশ রাষ্ট্র, বাংলাদেশের সরকার যদি এই বিচার কার্যকর করতে না পারে তাহলে বাংলাদেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নিবে।
সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার আমাদেরকে জানাবে শহীদ ওসমান হাদি’র হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সে পারবে কিনা? যদি পারে তখন তার প্রতি আমাদের আচরণ হবে একরকমের। আর যদি সে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে আমাদের আচরণ হবে অন্যরকমের।
বুধবার রাতে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। দাবিগুলো হলো- হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার করা।
তিনি বলেন, ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে দশ মাস আগে। খুনিদেরকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত সরকার। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার এই খুনিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ভারত সরকার এখন পর্যন্ত সেই চিঠির একটা উত্তর দেয়ার কোন প্রয়োজনবোধ করে নাই। তারা খুনি হাসিনা ও খুনি হাসিনার যত সঙ্গোপাঙ্গ ছিল তাদেরকে ভারতে আশ্রয় দিচ্ছে। আর ভোটার তালিকা হালনাগাদের মাধ্যমে মুসলিমসহ নিগৃহীত জনগোষ্ঠীকে সেই দেশ থেকে বিতাড়নের নীলনকশা করছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক বলেন, আমরা তিনটা দাবি নিয়ে আসছি, এই তিনটা দাবি তো একটাও আমাদের না। বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিছে আওয়ামী লীগ। কিভাবে এই বিচার ব্যবস্থাকে উন্নত করা যায়? গণমানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়? বিচারের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।
তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির ব্যাপারেও তারা এই একই কাণ্ড ঘটাতেছে। আমাদেরকে বারবার বলছি খুনিদেরকে তারা তো এখন ভারতে পলাতক রয়েছে, তো আমরা একটা চার্জশিট দিয়ে দেই। যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে তারা শুধু সুটার, এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ জবাবে জাবের বলেন, ‘আজকে অনেকে বলে শহীদ ওসমান হাদি কে? এই মানুষগুলো হিন্দুত্ববাদীদের সাথে আপস করে দিল্লির কাছে মাথা নত করে। তারা ক্ষমতায় এসে জিজ্ঞেস করে ওসমান হাদি কে? ওসমান হাদি হইলো সে যাকে হত্যা করার জন্য দিল্লির সর্বোচ্চ স্থান থেকে অর্ডার দেয়া লাগছে। তুমি এবং ওসমান হাদি দুইটা এক জিনিস না, এটা মনে রাইখো। ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। সুতরাং ওসমান হাদি কে এবং তার অবদান কি সেটা এখানে যে মানুষগুলো আছে তারা বলে দেবে। তোমার মতো অথর্বকে বলার দরকার নাই।’
তিনি বলেন, আমাদের তিনটা দাবি। এই দাবিগুলো শুধু ইনকিলাব মঞ্চের নয়, এই দাবিগুলো বাংলাদেশের। কারণ আমরা যদি শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে বাংলাদেশে আর কোনদিন কোন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে না। তো সেই জায়গা থেকে হলো শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা আমাদের জরুরি।
জাবের বলেন, শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে, দিল্লির প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে আমরা সেই ভয় ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবলমাত্র দিল্লি শান্ত থাকবে। যদি বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হয় তাহলে দিল্লি ছারখার হয়ে যাবে। আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে দিল্লির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কিন্তু আপনারা আমাদের সন্ত্রাসীদেরকে আশ্রয় দিবেন, শহীদ হাদি’র খুনিদেরকে ফিরিয়ে দিবেন না। এরপরেও আমাদের সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলে বলে আমাদেরকে দীর্ঘ পঞ্চান্ন বছর ধরে যেই নির্যাতন করে আসছেন এখন আমাদের সময় এসেছে সেই প্রত্যেকটা নির্যাতনের, প্রত্যেকটা গুম, খুন, হত্যার জবাব দেয়ার।
পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয়সহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে মেডিকেল মোড়, ডিসির মোর, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্তর, প্রেসক্লাব হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইনকিলাব মঞ্চ। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তারা লিফলেট বিতরণ করেন।
