মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

কয়রায় চাঁদা দাবি ও ব্যবসার মালিকানা ছাড়তে চাপ

খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম

কয়রায় চাঁদা দাবি ও ব্যবসার মালিকানা ছাড়তে চাপ

 খুলনার কয়রা উপজেলায় চাঁদা দাবি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধেক মালিকানা ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। দাবি পূরণে রাজি না হওয়ায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী গোলাম রব্বানী। এ ঘটনায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কয়রা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে গোলাম রব্বানী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরিফুল ইসলাম ও হারুনুর রশিদ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কয়রা উপজেলার মেঘারাইট গ্রামের আব্দুল হাকিমের কাছ থেকে গত ২৭ জুন চার বছরের জন্য জমি লিজ নেন গোলাম রব্বানী। ওই জমিতে ইট, বালু ও কাঠের আড়ৎ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে তিনি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ শুরু করেন।
গোলাম রব্বানীর অভিযোগ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজ শুরুর পর স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু সালেক সরদারসহ কয়েকজন তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ হারুন অর রশিদের সঙ্গে দেখা করলে তাঁকে ব্যবসার অর্ধেক মালিকানা ছেড়ে দিতে বলা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের লোকজনের খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, এসব শর্তে রাজি না হওয়ায় জমির মালিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করে লিজের চুক্তি বাতিলের চেষ্টা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৫ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে মেঘারাইটে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
লিখিত অভিযোগে গোলাম রব্বানী দাবি করেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ হারুন অর রশিদ এবং আবু সালেক সরদরসহ ১০ থেকে ১২ জন এ ঘটনায় জড়িত। হামলায় তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড এবং হামলার কিছু ভিডিও তাঁর কাছে রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন গোলাম রব্বানী। লিখিত আবেদনে কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং মদিনাবাদ লঞ্চঘাট এলাকায় বালুর আড়ৎ দখলের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
এ বিষয়ে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, “আমি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। অযথা হয়রানি করতেই আমার নাম দেওয়া হয়েছে বলে আমি মনে করি।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ বলেন, “যে হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, আমি সেই হারুন নই। অভিযোগে কি আমার পিতার নাম দেওয়া আছে? নেই। তাহলে কোন হারুন, সেটা খোঁজ নেন।”
এ ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
 

দৈনিক মুক্তবাণী

Link copied!