নোয়াখালীর সুবর্ণচরে রাজমিস্ত্রি শ্রমিক রুবেল হোসেনকে ফোনে ডেকে এনে মারধর এর অভিযোগ উঠেছে চরজুবলি ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য নাছিমা বেগম এর বিরুদ্ধে।
উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়ন এর ৯ংনং ওয়ার্ডের চর-মহিউদ্দিন গ্রাম এর মৃত আলাউদ্দিন এর ছেলে হন রুবেল
গর (২৮ অক্টোবর) সকালে কাশেম মাঝির সমাজ মসজিদ এর সামনে দোকানে স্থানীয় ইউপি মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগম রাজমিস্ত্রি শ্রমিক মো. রুবেলকে বহিরাগত ও স্থানীয় সন্ত্রাসী রিক্সা চালক কালো মিয়ার ছেলে সোহেল কে দিয়ে ফোনে ডাকেন মেম্বার, রুবেল সেখানে উপস্থিত হলে তার সাথে কথা কাটা কাটি হয় একপর্যায়ে রুবেলকে মারধর শুরু করেন মেম্বার,পরে স্থানীয় সন্ত্রাসী সোহেল, সুমন, ফারুক, নবী, নুর ইসলাম কন্ডাক্টর, হেলাল, আবুল কাশেম মাঝি, সাহাব উদ্দিন,রিকশা চালক কালু মিয়া,হানিফ ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা করে পেলে রাখে।
পরে চরজুবলি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান মেম্বার নাছিমা, গ্রামপুলিশকে বলে তাকে থানায় নিয়ে যান সে মাদক কারবারি সাথে জড়িত, গ্রামপুলিশ রুবেল তার শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
স্থানীয়রা জানান, মোঃ রুবেল এর বাবা মারা যাওয়ার পরে সংসারের হাল ধরেন বিভিন্ন জায়গায় রাজমিস্ত্রি কাজ করে সংসার চালান, প্রতিবেশী শাহাব উদ্দিন ও নুর ইসলাম এর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে বসত বাড়ির জায়গা জমি ও বাড়ির রাস্তা নিয়ে মামলা মোকদ্দমা রয়েছে,রুবেল কে শাহাব উদ্দিন মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলে,মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেন,স্থানীয় সন্ত্রাসী ও ইউপি মহিলা মেম্বার নাছিমার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় হেনস্তা করে আসছে, গত ২৮ অক্টোবর সকালে সন্ত্রাসী সোহেলকে দিয়ে ফোনে মহিলা মেম্বার নাছিমা ডেকে এনে মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলে, রুবেল মামলা তুলে না নেওয়ার অস্বীকার করলে তাকে লাঠি সোটা দিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, গত (৩০ অক্টোবর ২০২৫) এর দিকে রুবেল এর বাবা আলাউদ্দিনকে মেরে আখ খেতে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা, পরে এলাকার লোকজন কাশেম মাঝি ও শাহাব উদ্দিন ইউপি মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগম এসে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং ভয়-ভীতি দেখায় বলে পুলিশকে জানালে পরিবারের আরো ক্ষতি হবে বলে জানান পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে আলাউদ্দিন কে দাফন করেন স্বজনরা ।
ভুক্তভোগী পরিবার মনোয়ারা বেগম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রাহমান এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন সন্ত্রাসীরা বিগত কয়েক বছর ধরে আমাদেরকে জিম্মি করে রেখেছে, ঘর থেকে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে বিভিন্ন সময় পান নাসের হুমকি দিয়ে থাকে,আমার স্বামী আলাউদ্দিনকে মেরে পেলে আখ খেতের বিতর ফেলে রেখেছে কোন বিচার পাইনি, বেবেচি নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলে ঠিকঠাক মত বাঁচতে পারবো এখন দেখী সন্ত্রাসীরা বিএনপির সাথে এক হয়ে আমাদের উপর আরো অত্যাচার বাড়িয়ে দিছে আমরা সরকারের কাছে নিরাপদ চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগম মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন রুবেল ও তার প্রতিবেশীদের সাথে জায়গা জমি ও বাড়ির রাস্তা নিয়ে বিরোধ, জায়গা জমি নিয়ে একাধিকবার গ্রামবাসী সহ সালিশ হয় বসে এখনো কোনো সমাধান হয়নি বলে জানান। ফোনে ডেকে আনার বিষয়েও তিনি অস্বীকার করেন। এর আগেও নাছিমা বেগম এর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ রয়েছে, গত (২৫ মে,২০২৬) রহিমা বেগম নামের এক মহিলা ভিজিএফ কার্ডের চাউল চাইলে তাকে প্রকাশ্যে জুতাপিটা করেন , তখনো কোন বিচার পাননি ভুক্তভোগী রহিমা বেগম।
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান জানান, কেউ যদি কাউকে শারীরিক আঘাত করিয়া থাকে এটা ফৌজদারি অপরাধ, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানায় রুবেল বাদী হয়ে ইউপি মেম্বার নাছিমা বেগমকে বিবাদীসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেন।
চরজব্বর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মো. রফিকুল হাসান জানান রুবেল নামের এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তদন্ত করে সত্যতা খুঁজে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
