বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

খুলনায় হত্যা-গুলি-অপহরণে বাড়ছে আতঙ্ক, অধরা অপরাধের নেপথ্যের কারিগররা

খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

খুলনায় হত্যা-গুলি-অপহরণে বাড়ছে আতঙ্ক, অধরা অপরাধের নেপথ্যের কারিগররা

 খুলনায় একের পর এক হত্যা, গুলি, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। একসময় অপরাধী চক্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, এমনকি পথচারীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। চাঁদা না পেয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর, অস্ত্রের মুখে মানুষকে তুলে নেওয়া এবং প্রকাশ্যে গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় পুলিশ কিছু আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও অপরাধের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী ও প্রভাবশালীদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। ভয়ে মামলা না করা এবং সাক্ষ্য দিতে অনীহাকে কাজে লাগাচ্ছে অপরাধীরা।

সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে একের পর এক চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর শামসুর রহমান রোডে রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠান দুটির কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে বিলম্বকে কেন্দ্র করে হামলাকারীরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির এক নারী কর্মী জানান, সন্ধ্যায় প্রথমে পাঁচ থেকে সাতজন ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশ করেন। বাইরে আরও ১০ থেকে ১২ জন অবস্থান করছিলেন। পরে তাঁদের সঙ্গে আরও লোকজন যোগ দেন। একপর্যায়ে হামলাকারীর সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০ জনে পৌঁছায়। তাঁরা দরজায় লাথি মেরে ভেতরে ঢুকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করেন। এ সময় তাঁর স্বামীকে মারধর করা হলে তিনি বাধা দিতে যান। তখন তাঁকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এতে তাঁর ঠোঁটে আঘাত লাগে।

ওই নারী বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের আয় থেকেই তাঁদের সংসার চলে। হামলার পর থেকে তাঁরা আতঙ্কে রয়েছেন। হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

এর আগে গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় নগরীর বাবুখান রোডে সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে সোনাডাঙ্গার মজিদ সরণিতে প্রতিষ্ঠানটির অন্য শাখা সন্ধানী মেডিকেয়ার হাসপাতালেও ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনায়ও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মালিকপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোড মোড়ের ঐতিহ্যবাহী চয়নিকা ফার্মেসি চাঁদাবাজির অভিযোগে গত ২৯ অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে।

ব্যবসায়ী-শিক্ষকও নিরাপদ নন

চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলা ও গুলির ঘটনা এখন আর চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নেই। নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়ার কলেজশিক্ষক ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডু চাকরির পাশাপাশি মুদি ব্যবসা করেন। গত ২৪ অক্টোবর গাছতলা এলাকায় নিজের দোকানে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশের ভাষ্য, চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। নুর আজিম গ্রুপের সদস্যরা তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গত ১৮ অক্টোবর মধ্যরাতে টুটপাড়া আমতলা মোড়ে শেখ জুম্মান রহমান নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। জুম্মান টুটপাড়া এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি বিসমিল্লাহর বড় ভাইয়ের ছেলে। তিনিও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর প্রায় ১৫ দিন আগেও একটি অপরাধী চক্রের সদস্যরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে গুলি চালায়। সেদিন পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

নগরীর প্রাণকেন্দ্র পিটিআই মোড়ের আলোচিত রেস্টুরেন্ট চাইনিজ প্যালেসেও হামলা ও ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। রেস্টুরেন্টের মালিক মাসুদ হোসেন বলেন, কেন তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁর কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলাও করেননি।

এর তিন দিন আগে নগরীর জনবহুল কমার্স কলেজের সামনে সন্ধানী ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা না দেওয়ায় বি-কোম্পানির ১০ থেকে ১২ জন সদস্য এ হামলা চালান। ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণে থাকা বি-কোম্পানির অন্যতম সহযোগী ফাকাব্বির স্থানীয় কোচিং সেন্টারগুলোতে বেশ কিছুদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ মারুফ ও হিরা নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা দুজনই বি-কোম্পানির সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে হামলার নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা এখনো শনাক্ত হয়নি।

এর আগে গত ৩ জুলাই সন্ধ্যায় নগরীর রূপসার নতুন বাজার বেড়িবাঁধ সড়ক এলাকায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৫) গুলিবিদ্ধ হয়। ২ জুলাই লবণচরা থানার আশীবিঘা বালুর মাঠ এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন রাতুল শেখ নামে এক তরুণ।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, এসব গুলির ঘটনার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। কোথাও ব্যক্তিগত বিরোধ, কোথাও চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ থেকে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।

অপহরণ, হত্যা ও মামলা না করার প্রবণতা

গত ৭ অক্টোবর নগরীর কে ডি ঘোষ রোড থেকে সদর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে একদল যুবক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রায় ৪০ মিনিট পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে আটক করলেও ভুক্তভোগী মামলা না করায় আইনগত ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে জটিলতা তৈরি হয় বলে জানিয়েছে। অপহরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে নগরীর শেখপাড়া এলাকার কশাই লিটনের বিরুদ্ধে। তবে তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

একইভাবে গত ২২ অক্টোবর গুলিতে নিহত তাওহিদুল ইসলাম তুষারের পরিবারের পক্ষ থেকেও মামলা করা হয়নি। চাঁদা না দেওয়ায় গুলিবিদ্ধ কলেজশিক্ষক আকাশ কুণ্ডুর ঘটনায়ও মামলা হয়নি বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের মামলা না করার পেছনে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ককে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন রিপন বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সামাজিক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা মামলা করছেন না কিংবা সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলছেন না। তাঁদের সহযোগিতা পেলে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

১০ মাসে ৬৯ হত্যাকাণ্ড, গুলিতে আহত অর্ধশতাধিক

খুলনা মহানগর পুলিশের অপরাধ শাখার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১০ মাসে খুলনা মহানগর ও জেলায় মোট ৬৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) আওতাধীন এলাকায় ৩৪টি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৬ জন। একই সময়ে গুলিতে জখমের ঘটনা ঘটেছে অর্ধশতাধিক।

আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের অগ্রগতি তুলে ধরে কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) এম শাকিলুজ্জামান বলেন, গত ১০ মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর অধিকাংশের আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৩৪টি হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ২১৪ জন। তাঁদের মধ্যে ১৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনের মামলাগুলোর ৯০ শতাংশ সমাধান করতে পেরেছেন বলে দাবি করেন তিনি। হামলা, ভাঙচুর ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও পুলিশ সক্রিয় রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

খুলনার নাগরিক নেতা বাবুল হাওলাদার বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নাগরিক নেতারা বাকরুদ্ধ। প্রতিটি এলাকায় চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিটি নাগরিক কোনো না কোনোভাবে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। শহরে ছিনতাইয়ের ঘটনাও বেড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রশাসনের পক্ষেও তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতানুগতিক বক্তব্য নাগরিকদের উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। তিনি খুলনাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে প্রশাসনের জনবল বাড়ানোর দাবি জানান।

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদকসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। পুলিশ তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেও তাঁদের কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। সাধারণ মানুষও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চান না, এটিও বড় সমস্যা। তাঁর ভাষ্য, খুলনায় মাদককেন্দ্রিক অপরাধের প্রবণতা বেশি। অনেক ক্ষেত্রে বস্তি এলাকার কিশোর-তরুণদের ব্যবহার করে অপরাধ সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়। অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

নদীতে মিলল বি-কোম্পানির দুই সদস্যের মরদেহ

সর্বশেষ সোমবার দুপুরে খুলনার রূপসা উপজেলার আঠারোবেকি নদীর চরে স্থানীয় লোকজন প্রথমে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ভাটার সময় পানি কমে গেলে একই স্থানে আরও একটি মরদেহ দেখতে পান তাঁরা। খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন সোহাগ (৩৭) ও আল আমিন (৩২)। সোহাগের বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুরে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। আল আমিনের বাড়ি বটিয়াঘাটায়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুজনই গ্রেনেড বাবুর গড়া সন্ত্রাসী গ্রুপ বি-কোম্পানির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁদের শরীরেই গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, সোহাগ ও আল আমিনকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মাদকের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার ওমর ফারুক সরকার বলেন, জেলায় সন্ত্রাস দমনে ব্লক রেইড, স্পট রেইড এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা ধরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। খুলনার হত্যাকাণ্ডগুলোর বেশির ভাগই মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে ঘটছে। এ কারণে মাদক স্পটগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দাগি আসামিরা যাতে দ্রুত জামিন না পান, সে জন্য বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। দ্রুত সন্ত্রাস দমন করে খুলনাকে শান্তির নগরীতে পরিণত করা হবে।

এদিকে গত ১২ দিনে খুলনায় সাতটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শেষ দুই দিনেই নিহত হয়েছেন চারজন। নিহতদের মধ্যে খুলনা মহানগর তাঁতী দলের একজন নেতাও রয়েছেন। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পাঁচজন, যাঁদের মধ্যে যুবদলের বর্তমান ও সাবেক তিন নেতা রয়েছেন। ধারাবাহিক এসব ঘটনা নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
 

দৈনিক মুক্তবাণী

Link copied!