ফেনী-পরশুরামে রেলওয়ের দখলকৃত জমি উদ্ধারে ফেনী-বিলোনিয়া রুটে ট্রেন চালুর প্রস্তাবনা করেছেন ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) মোহাম্মদ কাউসার হামিদ। গত রোববার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় এ প্রস্তাবনা করেন তিনি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ফুলগাজীর ইউএনও বলেন, ফুলগাজী-পরশুরামে রেলওয়ের জায়গা বেদখল করে বস্তি ও মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে। অনেক জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষা করতে হলে ছোট দুটি বগি নিয়ে হলেও ফেনী-বিলোনিয়া রুটে ট্রেন পুনরায় চালু করা যেতে পারে। এতে স্থানীয় মানুষরাও উপকৃত হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান জেলা প্রশাসক। বক্তব্যে তিনি রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, রেলওয়ের যত সম্পত্তি রয়েছে তার ২৫ ফুটের মধ্যে লিজ দেওয়া যাবে না। রেললাইনের পাশে অধিকাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে।
যারা লিজ নিয়ে খাজনা দেয়নি এবং যাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে তাদের উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিতে হবে।
এসময় সভায় উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সবার সাথে সমন্বয় করে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভায় পরশুরামের বক্সমাহমুদে অগ্নিকাণ্ডে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক।
সভায় ফেনী কলেজের পুরাতন লাল দালান সংস্কার, দাগনভূঁঞার দাদনা খাল পুন:খনন কার্যক্রমের অগ্রগতি, ড্রাগ লাইসেন্স ও ফ্যামিলী কার্ড কার্যক্রমের অগ্রগতি, শহরের স্কুল-কলেজের সামনে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি নিয়ে আলোচনা করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল-আমিন সরকারের সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নুরুদ্দীন মু. শিবলী নোমান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ জামিল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদারসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
