গাজীপুর চৌরাস্তায় পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের গায়েবানা জানাজার প্রস্তুতিকালে আইনশৃংখলা বাহিনীর সাউন্ডগ্রেনেডে পণ্ড হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় বুধবার রাতে টঙ্গীর খাঁপাড়া পুরানবাজারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এনসিপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গাজীপুর মহানগর এনসিপি`র সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল মুহিম।
তিনি জানান, বুধবার আমাদের শ্রমিক শক্তির নেতৃবৃন্দরা আন্দোলনকালে হামলায় নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের গায়েবানা জানাজার আয়োজন করেছিল। কিন্তু সেখানে প্রশাসন বর্বোরচিতভাবে পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্টদের মতো গায়েবানা জানাজায় যারাই অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের ওপর সাউন্ডগ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের প্রায় ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জনকে সাথে সাথে ঢাকা মেডিকেলে পাঠাতে হয়েছে।
আহতদের মধ্যে অন্যতম ছিল জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজারুল ইসলাম। মাজারুল ইসলাম একটি কানের পর্দা পুরোপুরি ফেটে গেছে। এছাড়াও আশরাফুল ইসলাম রাহুলসহ মোট ১২ জন আহত হয়েছে এবং তাদের পরিস্থিতি খুবই খারাপ।
তিনি আরও বলেন, এই যে বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা, সেখানে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম—এই রাষ্ট্র, বিশেষ করে সরকারি দল যারা রয়েছে, তারা অবশ্যই শ্রমিকের মজুরিকে প্রাধান্য দেবে। কিন্তু সেখানে আমরা দেখতে পেয়েছি যে, শুধু শ্রমিকের মজুরিকে প্রাধান্য না দিয়ে তারা আনুষাঙ্গিক যে বিষয়গুলো রয়েছে, বিশেষ করে অন্যান্য দল ও বাহিনীকে দমন করার একটা কৌশল হিসেবে এটিকে নিয়েছে। একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমরা আমাদের শ্রমিকের পক্ষে কথা বলতে পারব এবং এটি খুব স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সেখানে আমাদেরকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, দলীয় বাহিনী এবং প্রশাসন দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং আমাদেরকে কোনোভাবেই সেই প্রোগ্রামটা সেখানে বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, যেহেতু এই প্রোগ্রামটা গাজীপুর মহানগরের সীমানার মধ্যে ছিল।আমরা এ বিষয়ে স্পষ্ট নিন্দা জানাচ্ছি। একই সাথে আমরা এই আহ্বান জানাচ্ছি যে, একটা স্বাধীন দেশে প্রত্যেক নাগরিকের কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে, যদি সেটা সহিংস না হয়। আমাদের আন্দোলন ও কর্মসূচিটি ছিল একেবারেই শান্তিপূর্ণ; সেখানে কোনো ধরনের সহিংসতামূলক কিছু করার চেষ্টা কিংবা ন্যূনতম সেরকম কোনো আভাসও ছিল না।
তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন, গতকাল তৌফিক নামের যে ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে, তার প্রতিবাদেই মূলত আমাদের এই গায়েবানা জানাজার কথা ছিল। কিন্তু সেটাকে ভয় দেখিয়ে ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে থামিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, তার নগ্ন রূপই আজকে আমরা দেখতে পেয়েছি। আপনারা মিডিয়ার কল্যাণে সারা বাংলাদেশ এখন সেটা জানে। আমরা সেই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাবিল ইউসুফ, টঙ্গী পশ্চিম থানা এনসিপি`র আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, জাতীয় যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তারেক, সদস্যসচিব ওমর ফারুকসহ অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
