বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
ভেজাল ওষুধের ছড়াছড়ি

নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১১:৩০ এএম

নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ফার্মেসীগুলোতে ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি বাড়ছে। মহানগরীর পাড়া-মহল্লার ফার্মেসীগুলোতে নিম্নমানের ওষুধের ছড়াছড়ি। মূল কোম্পানীর ওষুধের মতো হুবহু লেবেলে নকল ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। মূল কোম্পানির ওষুধের চেয়ে দাম কম হওয়ায় এসব ওষুধ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। এতে করে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। রোগীর লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক, অস্থিমজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মূলত ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের নজরদারী না থাকায় নকল ওষুধ বিক্রির রমরমা ব্যবসা চলছে। এই ওষুধ শরীরের যে রোগের জন্য খাওয়া হচ্ছে, তার কাজ হচ্ছে না। এতে টাকা গচ্চা যাচ্ছে। একই সঙ্গে রোগীর লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক ও অস্থিমজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নকল-ভেজাল ওষুধ নিয়ে বিভিন্ন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইটের গুঁড়ার সঙ্গে নানা ধরনের রং ও কেমিক্যাল মিশিয়ে ওষুধ বানানো হয়। গ্রামে-গঞ্জে এ ধরনের ওষুধই নাকি বেশি বিক্রি হয়। কারণ নকল ওষুধে বিক্রেতাদের লাভ হয় অনেক বেশি। শুধু মুখে খাওয়ার ওষুধই নয়- ইনহেলার, অয়েন্টমেন্ট বা ইনজেকশনের মতো ওষুধও নকল হচ্ছে। এমন উপাদান দিয়ে ইনহেলার তৈরি হয়েছে, যা উপকার তো করবেই না; বরং মারাত্মক ক্ষতি করবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি উৎপাদিত ওষুধের সুনাম ও চাহিদা বাড়লেও দেশের চিত্র ভিন্ন। ওষুধ শিল্পের অভাবনীয় উন্নতি অথচ দেশের বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে ভেজাল ওষুধে। সু-চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে ভেজাল ওষুধ কিনে উল্টো নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ওষুধ বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের মতো এত বেশি ওষুধ তৈরি ও বাজারজাতের প্রবণতা বিশ্বের অন্য কোথাও নেই। ওষুধকে জীবন রক্ষাকারী পণ্য না ভেবে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অন্য কিছুর মতোই লাভজনক পণ্য হিসেবে বাণিজ্য করার লক্ষ্যে ওষুধের ব্যবসায় নামেন। সরকারের তরফ থেকেও এর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত রোগী-চিকিৎসক ও বিক্রেতারা প্রতি মুহূর্তে বিভ্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা দরকার বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ভেজাল ও নকল ওষুধের দৌরাত্ম্যে দেশে অনেক রোগই নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। বরং এক রোগ থেকে নানা রোগের জন্ম হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের দিক থেকে আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। এ ছাড়া কোনটা আসল আর কোনটা নকল ওষুধ, তা নিয়ে মানুষ থাকে অন্ধকারে। তাই মানুষকে ওষুধ সম্পর্কে আরো সচেতন করা দরকার। বিশেষ করে ভালো মান ও গুণের ওষুধ সম্পর্কে সাধারণের মধ্যে প্রচার-প্রচারণাকেও এখন যুক্তিযুক্ত মনে করছেন অনেকে।
 

জে/এইচ

Link copied!