সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টার খবরকে ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস)। সংগঠনটির দাবি, প্রকাশিত ঘটনার সঙ্গে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে সন্দেহজনক একটি নৌযানের খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজে ডাকাতির চেষ্টার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি করেন টোয়াসের সাধারণ সম্পাদক শাহ জামান খান পপুল। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
টোয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা তাঁদের জানিয়েছেন, রাত ৯টার দিকে স্থানীয় জেলেরা একটি সন্দেহজনক নৌযান চলাচলের খবর দেন। পরে বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। তবে ওই নৌযানের সঙ্গে কোনো ট্যুরিস্ট জাহাজের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
ওই কর্মকর্তা কোনো গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার দেননি বলেও টোয়াসকে জানিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
এদিকে আলোচিত ঘটনার সঙ্গে ওয়েব কুইন ও আরএনজি নামের দুটি জাহাজের প্রসঙ্গও তুলে ধরে টোয়াস। সংগঠনের সদস্য তাকির বলেন, ঘটনার রাতে তাঁদের জাহাজে ৪৫ থেকে ৫০ জন পর্যটক ছিলেন। রাত ১১টার দিকে পশুর নদীতে পৌঁছানোর সময় অন্য একটি জাহাজ থেকে তাঁদের জানতে চাওয়া হয়, তাঁরা কোনো বিপদে পড়েছেন কি না কিংবা গুলির শব্দ শুনেছেন কি না।
তাঁর দাবি, তাঁরা কোনো গুলির শব্দ, চিৎকার বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি টের পাননি। ওই সময় আশপাশে অনেক জেলে নৌকা ও মাছ ধরার ট্রলারও ছিল।
টোয়াস নেতারা বলেন, সুন্দরবনের পেরিফেরি এলাকায় স্থানীয় জেলে ও দস্যুদের মধ্যে বিরোধ বা সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে। এসব ঘটনায় বন বিভাগের সদস্যরা নিয়মিত ব্যবস্থা নেন। কিন্তু এমন কোনো ঘটনাকে পর্যটনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সুন্দরবন নিয়ে অযথা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে।
সংগঠনটির নেতারা জানান, তাঁরা দুই থেকে তিন দশক ধরে সুন্দরবনে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পর্যটকবাহী জাহাজে বন বিভাগের সদস্য ও নিরাপত্তারক্ষীরা থাকেন। রাতে এসব জাহাজ সাধারণত বন বিভাগের কার্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থান করে বলেও তাঁরা দাবি করেন।
টোয়াসের নেতারা আরও বলেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি এবং দেশের পর্যটন ভাবমূর্তি জড়িত। পর্যটন মৌসুম শুরুর মুখে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তাই সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জাহাজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে টোয়াস।
